সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাটে হত্যাকান্ডের বিরোধকে কেন্দ্র করে আব্দুল কাদির নামের এক ব্যক্তিকে খুন করেছে প্রতিপক্ষ। হত্যার পর আব্দুল কাদিরের বসতঘরেও আগুনে পুড়িয়ে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের আরো ৫/৬ সদস্য আহত হয়েছেন।
নিহত আব্দুল কাদির উপজেলা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লাবু গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে। তিনি ৪ বছর আগের একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
শুক্রবার(১৫ জুলাই) দিনগত রাতে পূর্বের হত্যাকান্ডের বিরোধের জের ধরে স্থানীয় দক্ষিণ লাবু গ্রামে হত্যাকান্ড ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভোররাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে, নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি এন্ড মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন, বিগত ৪ বছর আগে গ্রামে আরেকটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। কাদির ছিলেন ওই হত্যার মাস্টারমাইন্ড আসামি। তাকে হত্যার পর বাড়ি ঘরে আগুন ধরি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর রাতে অন্তত ৩০ জন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সময় হামলাকারী প্রতিপক্ষের কয়েকজনও আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, কাদির ছিলেন আগের হত্যাকান্ডের মূল হোতা। পূর্বের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের মামলার খরচ বহন করতেন কাদির। কিছুদিন ধরে তিনি মামলার খরচাপাতি না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ফলে দু’টি পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এরমধ্যে লাবু গ্রামের হাজি কামালের পক্ষের লোকজন রাতে কাদিরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যা জবাই করে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে তার বসতঘরে আগুন লাগিয়ে ভস্মিভূত করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫/৬ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪ বছর আগে দক্ষিণ লাবু গ্রামে আরেক লোককে হত্যা নিয়ে নিহত কাদির ও তার বাবা আবদুল খালিকের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষে মামলা হয়। এ হত্যাকান্ডের মামলার খরচ পরিচালনা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে হাজি কামালের লোকজনের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই জের ধরে শুক্রবার রাতে আব্দুল খালিকের বাড়িতে প্রতিপক্ষ সাবেকে ইউপি সদস্য শামসুদ্দিন ও হাজি কামালের লোকজন হামলা করে আবদুল খালিকের ছেলে আবদুল কাদিরকে (৪০)ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নৃশংস হত্যার পর হামলাকারীরা বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে তছনছ করে দেয়। এঘটনায় ৫/৬ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রাও জানান, হত্যাকান্ডের শিকার কাদিরও পূর্বের হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামী ছিলেন।
সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে.এম নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহদের মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে প্রেরণ করে। নিহত কাদির অপর একটি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী ছিলেন।পুলিশের একাধিক টিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে, শনিবার সকাল থেকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন। হত্যার ঘটনায় হাজি কামালসহ ৭ জনকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



