বন্যায় ভাসছে গোটা সিলেট। এখনো তলিয়ে আছে অনেক বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, এমনকি কবরস্থান। এই পরিস্থিতিতেও সুখবর দেশের পর্যটকদের জন্য। রেকর্ড বৃষ্টিপাত তাদের জন্য নিয়ে এসেছে এই আনন্দের বার্তা। দেশের বৃহত্তম হাকালুকি হাওর নিয়েছে নয়নাভিরাম সাগরের রূপ। আর বৃষ্টিপাত ও পানিনির্ভর পর্যটন স্পট মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতসহ রাতারগুল, সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, জাফলং হয়ে উঠেছে আরও আকর্ষণীয়। দেশের পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারসহ সিলেটের অর্ধশতাধিক স্পট। সরকারি পর্যটন কেন্দ্রগুলোও প্রস্তত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব স্পটে যাওয়ার রাস্তাঘাটও মোটামুটি স্বাভাবিক। যে কারণে দেশের যেকোনো স্থানের পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে যেতে পারেন মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জে। অত্যাধিক গরমে হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, জাফলং, লালাখল জিরো পয়েন্ট এসব স্থানের পানিতে গা ভিজিয়ে শান্তি পেতে পারেন এমন অভিমত ভ্রমণপিপাসুদের।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে আকর্ষণীয় এক স্পট হাকালুকি হাওর। সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার মিলনস্থলে ৫টি উপজেলা পরিবেষ্টিত এই হাওরের আয়তন ৪৫ হাজার একর। সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিপাতের পর অনেকটা সাগরের রূপ নিয়েছে হাওরটি। আর হাওর এলাকায় আছে অসংখ্য নৌকা। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে পারেন মনের সুখে।
বড়লেখায় আছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও ইকো পার্ক। অধিক বৃষ্টিতে এখানের নয়নাভিরাম জলপ্রপাতে অঝোর ধারায় ঝরছে পাহাড়ি প্রাকৃতিক পানি। এছাড়া সিলেটের রাতারগুল, বিছনাকান্দি, সাদা পাথর, জাফলং, লালাখাল বৃষ্টির পানিতে প্রতিটি স্পট হয়ে উঠেছে সময়ের সেরা আকর্ষণীয়। থাকার জন্যও সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য ফাইভ ও থ্রি স্টার হোটেল, রিসোর্ট, রেস্ট হাউজ ও বাংলো প্রস্তুত।
সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) তৌফিকুল ইসলাম বলেন, মাধবকুণ্ড রাতারগুল কালেঙ্গাসহ আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন পর্যটন কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত আছে।
বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঈদে পর্যটকদের জন্য কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া ও হবিগঞ্জ জেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, গত বুধবার আমরা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির মিটিং করেছি। পর্যটকদের জন্য বাস সার্ভিস চালু রাখার পাশাপাশি যে কেউ গাইড নিয়ে সহজে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, কালা পাহাড়, বিভিন্ন চা বাগানে যেতে পারেন।
তিনি বলেন, হাকালুকি হাওরে পানি বেড়ে কিছুটা রিস্কি হয়ে গেছে। তারপরও কেউ সেখানে গেলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আহসান হাবীব বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুরোপুরি প্রস্তুত।
জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যদের ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের সাথে সমন্বয় করে এই অঞ্চলে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



