সিলেটে ছেলেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বায়ো্বৃদ্ধ আনা মিয়া (৯০)। তিনি নগরের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ধরাধরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে।
গত ১ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা (নং-০৫(০৭)’২২) দায়ের করেন তিনি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার দুই ছেলেসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন-বাদির ছেলে জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মুজিবুর রহমান (৪৮), আব্দুল মুক্তাদির (৪৬), জামাল আহমদ (৪৩), নিজাম আহমদ (৩৮), আব্দুল খালিক (৫০)। এজাহারনামীয় অন্যরা হলেন-সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল পানিছড়া গ্রামের খালিক মিয়ার ছেলে নিপু সওদাগর (২৩), তার সহোদর শিপু সওদাগর (২২) ও সানি সওদাগর (১৯), একই গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে সেলিম আহমদ (৩২) ও তার সহোদর শামীম আহমদ (২৮)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে। তারা হলেন- জামাল আহমদ, নিজাম আহমদ, সানি সওদাগর ও অজ্ঞতদের মধ্যে মাছুম আহমদ নামে আরেক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আনা মিয়া উল্লেখ করেন, এজাহারনামীয় ১নং আসামি ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান, ৩নং আসামি জামাল আহমদ, ৪ নং আসামি নিজাম আহমদ, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর ঔরসজাত সন্তান এবং ২নং আসামি আব্দুল মুক্তাদির ও ৫নং আসামি আব্দুল খালিক ১ম স্ত্রীর সন্তান। এছাড়া ৬.৭.৮ নং বিবাদি যথাক্রমে নিপু, শিপু ও সানি সওদাগর তার নাতি, ৮ ও ১০ নং বিবাদি তাদের সহযোগী ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী। তিনি দেশে থাকাবস্থায় সুরমা মার্কেটে ৩নং গলিতে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন কয়েকটি দোকান কোঠা বিভিন্ন লোকজনের কাছে ভাড়া দেই এবং ভাড়া আদায় করে আসছি।
এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ১ থেকে ৫ নং বিবাদী আমার ছেলে হলেও সন্ত্রাসী প্রকৃতির। তাদের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নে পৃথক জমি ক্রয় করে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেই। কিন্তু প্রবাসে থাকা তার ছেলে আব্দুল মুক্তাদিরের পরোক্ষ প্ররোচনায় অন্যান্য অভিযুক্তরা ১নং আসামি মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সুরমা মার্কেট ২/৮ নং দোকানের সামনে এসে ভাড়াটিয়াদের তাদের কাছে ভাড়া দিতে হুমকী দেয়। ভাড়াটিয়ারা বিষয়টি তাকে অবগত করলে ১ম সংসারের তৃতীয় ছেলে আব্দুল হাইকে নিয়ে ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে আসি। ২২ জুন বিকেলে ঘটনাস্থল সুরমা মার্কেটে গেলে ভাড়াটিয়ারা সব কিছু তাকে অবগত করেন। এমন সময় প্রধান আসামি মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত ৫/৬ জন পরিকল্পিতভাবে দোকানের সামনে আসে। তারা বলে, দোকানকোঠা ভোগদখল করতে হলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। এসময় আমার সঙ্গে থাকা ছেলে আব্দুল হাইসহ আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে দোকানকোঠা জবরদখল করবে বলে হুমকী দিয়ে যায়। এছাড়া তারা মোবাইল ফোনে আমার ছেলে আব্দুল হাইকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকী দেয় অন্য ছেলেরা। ঘটনার সময় মার্কেটের লোকজন জড়ো হতে দেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী মাহমুদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



