Δবন্যায় কতিগ্রস্থ প্রায় ৭২ লাখ মানষΔ
সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে সিলেটে অবস্থান করছে জাতিসংঘের যৌথ মিশন (জয়েন্ট মিশন)। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের(ইউএন) আবাসিক সমন্বয়ক (রেসিডেন্ট কো অর্ডিনেটর) জিন লুইস (Gwyn Lewis)।
এই প্রতিনিধি দল শনিবার (০২ জুলাই) সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বন্যা উপদ্রুত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছে।
রোববার (০৩ জুলাই) তারা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বন্যা উপদ্রুত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন, বলে জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জের বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনের পর শনিবার (০২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট নগরের উপকন্ঠে অবস্থিত পাঁচ তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হন।
এসময় ইউএন রেসিডেন্ট কো অর্ডিনেটর জিন লুইস বলেন, সিলেট বিভাগের চার জেলাসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৯টি জেলার ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন (প্রায় ৭২ লাখ) মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯টি জেলার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, শেরপুর। তন্মথ্যে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার অবস্থা সবচাইতে বেশী ভয়াবহ।
তিনি বলেন, বন্যায় ১ হাজার ৬০৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৫ লাখ লোক বসবাস করছে, যারা গৃহহীন হয়েছেন। আশ্রয় কেন্দ্রে নারী ও মেয়েরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে উপদ্রুত এলাকায় সন্তান সম্ভাবা প্রায় ৬০ হাজার নারী রয়েছেন তাদের পর্যবেক্ষণে।
এ বন্যাকে ১৯৯৮ সাল ও ২০০৪ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা উল্লেখ করে প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, গত মে মাসের আকস্মিক বন্যার ক্ষয়-ক্ষতি যখন এ বিভাগের মানুষ কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে, তখন ফের এই বন্যা আঘাত করলো।
প্রতিনিধি দল আশঙ্কা করছে আগামীতে আরো বন্যা হতে পারে। সাম্প্রতিক বন্যায় অনেকে গৃহহারা, বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অবকাঠামোগত ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) ও কেয়ারের নেতৃত্বে নিডস অ্যাসেসম্যান্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (নেএডাব্লিউজি) কাজ শুরু করেছে।
তারা সমন্বিত অ্যাসেসম্যান্টের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপণের পাশাপাশি এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে তাৎক্ষনিক ও মধ্যমেয়াদী প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি দেশের অভ্যন্তরে বড় দুর্যোগ হলেও সরকার সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। যেহেতু সরকার পদ্মা সেতুর মতো অবকাঠামো করতে পেরেছে। তারপরও জাতিসংঘের মাধ্যমে ইউরোপিও ইউনিয়ন, ফরেন কমনওয়েলথ এন্ড ডেভেলাপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) ও আমেরিকা ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে। এর কিছু কিছু সরকারের মাধ্যমে এনজিও সংস্থাগুলো ৬মাস ব্যাপী (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) কাজ করবে।
মুলত; তারা বন্যা দুর্গত এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি, স্যানিটেশন, হাইজিন, নারী ও শিশু সুরক্ষা, শিক্ষার শেল্টারে কাজ করবেন।
পর্যবেক্ষক দল আরো জানান, তারা ভাবছিলেন পানি কমে যাবে। কিন্তু কমেনি। ফলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আসতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানেরর মধ্যে ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি ক্রিসিন ব্লকাস (Kristine Blokus), ইউনিসেফের শেলডন ইয়েট (Sheldon Yett), বৃটিশ হাইকমিশনের ডেভেলপম্যান্ট ডাইরেক্টর মাট ক্যানেল (Matt Cannell), ইউরোপিয়ান কমিশনের ইসাবেলা ডি হাডট (Isabella D’Haudt) এবং স্টার্ট ফান্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সাজিদ রায়হান বক্তব্য রাখেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



