দেশের দক্ষিনাঞ্চলের খুলনা নগরীতে যুবককে এবং রাজবাড়ি জেলার পাংশায় ইউপি সদস্যকে ফোনে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৮ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা নগরের মুজগুন্নী বাসস্ট্যান্ডের সামনে মোল্যা জুলকার নাঈম (৩৮) ওরফে মারজান আহমেদ নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়।
নিহত নাঈম দীঘলিয়া উপজেলার সুগন্ধী গ্রামের মৃত সোহরাব মোল্যার ছেলে। বছর খানেক ধরে মুজগুন্নী এলাকায় নানা বাড়িতে (কাজী বাড়ি) থাকতেন নাঈম।
তিনি সেনহাটি বাজার কমিটির সেক্রেটারি। নাঈম খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চাঞ্চল্যকর গাজী আব্দুল হালিম হত্যা মামলার আসামি।
নিহতের মামা রিয়াজ বলেন, সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয় নাঈম। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় সে। পথে মুজগুন্নী বাসস্ট্যান্ডের সামনে এলে মোটরসাইকেলে আসা দু’জন যুবক খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করেন। এসময় একটি গুলি তার বাম চোয়ালে লাগলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর আরও দুইটি গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যান তারা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন নাঈমকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রাত ৯টা ১০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইউপি চেয়ারম্যান হালিম গাজী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।
খালিশপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) নিমাই কুন্ডু বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
এদিকে, রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফয়েজুর বিশ্বাসকে(৫০)গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার(২৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের কুম্বলমাঠ এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ফয়েজ বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের বিলমন্ডম গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ফয়েজ বিশ্বাস বাহের মোড়ে চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এসময় তার মোবাইল ফোনে কল পেয়ে তিনি ভ্যানে করে চায়ের দোকান থেকে বের হয়ে যান। কিছু দূর যাওয়ার পর সাওরাইল ইউনিয়নের কুলম্বমাঠ নামক এলাকায় পৌঁছালে ফাঁকা মাঠ থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত রাস্তায় উঠে এসে তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের(ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রব মুনা বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে তাকে ফোনে ডেকে নিয়ে গিয়ে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। ফয়েজুর সক্রিয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
রাজবাড়ীর সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা জানান, হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব শত্রুতা বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটতে পারে। তদন্ত চলছে। মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



