সীমান্তের কাছাকাছি জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে নো-ম্যান্স ল্যাণ্ডে ঢোকে পড়েছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও নাসির উদ্দিন। বিএসএফ তাদের দু’জনকে ধরে নিয়ে যায়। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ভারতের বিভিন্ন কারাগারে সাজাভোগের পর দেশে ফিরতে পেরেছেন। জন্মভূমিতে ফিরতে পেরে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তারা।
একইভাবে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরের বাসিন্দা বৃদ্ধ ইব্রাহিম খলিল কাজের সন্ধানে বিনা ভিসায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিএসএফ’র হাতে আটক হয়েছিলেন। অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে টানা ৭ বছর সাজাভোগ করে দেশে ফিরেন।
শহিদুল নাসির, ষাটোর্ধ্ব ইব্রাহিম খলিলের ন্যায় এভাবে অনুপ্রবেশসহ নানা কারণে ভারতে কারাভোগ করে দেশে ফিরেছেন ১৯ বাংলাদেশি নাগরিক।
বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের বিয়ানীবাজার শেওলা সীমান্ত দিয়ে তাদের বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।তাদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন বয়সী ১৪ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। সীমান্তে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে সবধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে পেয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দেশে ফেরা ষাটোর্ধ্ব ইব্রাহিম বলেন, গ্রামের বাড়িতে তাকে নিতে আসার মতো কেউ নেই। আপাতত মামার বাড়িতে গিয়ে উঠবেন তিনি।
ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্র জানায়, দেশে ফেরা লোকজনের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার ৪ জন, ব্রাক্ষবাড়িয়ার ২ জন, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, গাজীপুর, ঢাকা, চাঁদপুর, লালমনিরহাট, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, টাঙ্গাইল, নীলফামারী, লক্ষীপুর, ঠাকুরগাঁও ও বরিশালের একজন করে মোট ১৯ জন রয়েছেন।
সিলেটের বিয়ানীবাজার বর্ডার গার্ড বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ১৯ বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের কারাগারে বন্দি ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের কূটনৈতিক তৎপরতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদর দপ্তরের উদ্যোগ বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদেরকে বাংলাদেশে আনতে পেরে আমরা আনন্দিত।
তিনি বলেন, আরও যারা বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছেন বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
শেওলা চেকপোস্টের ইনচার্জ এসআই আবুল কালাম বলেন, ভারত থেকে সাজাভোগের পর দেশে ফেরা ১৯ বাংলাদেশি মেডিক্যাল পরিক্ষা-নিরীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ ছাড়াও করিমগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মায়াঙ্ক কুমার, বিজিবি বড়গ্রাম বিওপি’র কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার সিরাজুল ইসলাম, বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার এসি মান্দিপ, শেওলা ইমিগ্রেশন পুলিশ চোকপোস্টের ইনচার্জ এসআই আবুল কালাম, বিয়ানীবাজার থানার এসআই শাহ আলম, বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. হারুন-উর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



