বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং নদ-নদীর পানি কমায় সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শহরের প্রধান রাস্তাঘাট পানির নিচ থেকে ভেসে উঠছে।
শুক্রবার (২৪ জুন) সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে সুনামগঞ্জ শহরে বন্যার পানিতে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানি থেকে শহরের বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক এলাকায় রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলা কষ্টকর হচ্ছে।
যদিও সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেছেন, শহরের আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ শুরু হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত আবর্জনা পরিষ্কার না হচ্ছে ততদিন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জানা গেছে, দ্বিতীয় দফা বন্যায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের প্রায় শতভাগ রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট, সরকারি- বেসসরকারি অফিস, আদালত, হাসপাতাল পানিতে ডুবে গিয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরে শহরের প্রধান রাস্তাগুলো থেকে পানি নেমেছে। তবে এখনও নবীনগর, বিলপাড়, হাছননগর, জামতলা, হাজীপাড়া, কালীপুর এলাকার রাস্তা, ড্রেন, বাসাবাড়ির আঙিনায় আবর্জনা ও ময়লা পানি আটকে আছে। এসব থেকে দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যেসব রাস্তাঘাটে আবর্জনা পড়ে রয়েছে এবং বন্যার পানি জমে আছে সেসব এলাকার হাঁটাচলা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বাজারের রাস্তায় ময়লা জমে থাকায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টের ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন বলেন, বন্যার পানি রাস্তাঘাট থেকে নেমে গেছে। তবে এখনও রাস্তার ওপর আবর্জনা ও পানি আটকে রয়েছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দোকানের সামনে আবর্জনা আটকে থাকায় ব্যবসায়ী ও কাস্টমারের অসুবিধা হচ্ছে।
মধ্যবাজারের বাসিন্দা জাহিদ মিয়া আরটিভি নিউজকে বলেন, বন্যার পানি বাজার থেকে মেনে গেলেও আবর্জনায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করলে বিভিন্ন রোগ দেখা দেবে।
সুনামগঞ্জ স্টেশন রোডের দোজা মার্কেটের ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া বলেন, বন্যায় সব রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও বাসাবাড়ি পানির নিচে চলে গিয়েছিল। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রাস্তা-ঘাটে স্তুপ হয়ে থাকা আবর্জনায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা দিলীপ দেবনাথ বলেন, বন্যার পানি এখনও কিছু কিছু রাস্তায় আটকে রয়েছে। এসব পানিতে আবর্জনা পচে পানি দুষিত হয়ে গেছে। দুর্গন্ধের পাশাপাশি ময়লা পানিতে মানুষের চুলকানি হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, বন্যায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার শতভাগ এলাকা পানির নিচে চলে গিয়েছিল। নিচ তলায় থাকা সকলের বাসাবাড়ি ও অফিসের আসবাবপত্রসহ যা কিছু ছিল সব পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার পানি কমার পর গত দুদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান নিয়মিত চলছে। তবে এখনও অনেকের বাসাবাড়ি ও দোকানপাটের ময়লা ও আবর্জনা পরিষ্কার করে শেষ করতে পারেননি। একদিকে ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে অন্যদিকে নতুন করে ময়লা রাস্তার ওপর ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার ২২ কিলোমিটার সড়ক ও ১২ হাজার বাসাবাড়ির আবর্জনা পরিষ্কার করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



