সিলেট-সুনামগঞ্জে গত দুদিন ধরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এবার ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কুশিয়ারা নদী। আর সেই পানি প্রবেশ করছে হাকালুকি হাওরে। এজন্য বৃষ্টি আনুপাতিক হারে দেখা না মিললেও পানি বেড়েই চলেছে হাকালুকি হাওরে।
বুধবার (২২ জুন) প্রায় আধা হাত পানি বেড়েছে। ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার হাকালুকি হাওর তীরবর্তী কয়েকটি উপজেলা। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারার পানিতে সরাসরি সয়লাব হচ্ছে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর। এছাড়া মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ভারত থেকে আসা আরও ৪টি পাহাড়ি নদী ফানাই-আনফানাই, কন্টিনালা, জুড়ি দিয়ে উজানের ঢল নামছে উপমহাদেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে। ফলে হাওরের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। অনেক উঁচু বসতিতেও উঠেছে বন্যার পানি। এরই মধ্যে হাটবাজার, রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া এলাকার সাজেদ মিয়া বলেন, হাকালুকি হাওরের তীরবর্তী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ঘিলাছড়া জিরো পয়েন্ট পর্যটন কেন্দ্রও পানিতে তলিয়ে গেছে। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর এটাই সর্বোচ্চ বন্যা। এমন ভয়াবহ বন্যা আগে দেখেননি বলেও জানান স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, জকিগঞ্জ উপজেলার ৩৯টি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছিল। বর্তমানে উপজেলার লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী ও তীরবর্তী এলাকা পানিতে একাকার হয়ে গেছে। বানের পানিতে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরসহ ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আর হাকালুকি হাওরের চারপাশের অন্তত শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দা কমর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কুশিয়ারা নদীর পানি ডাইকে আঘাত করছে। আর সোনাই নদীর পানি সরাসরি হাওরে প্রবেশ করে বসতি ডুবাচ্ছে। আমরা পুরো বেকায়দায় আছি।
বালাগঞ্জ উপজেলার অবস্থাও একই। কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙে ও ওপর দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর, হাটবাজার ও রাস্তাঘাট। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বালাগঞ্জ-খছরুপুর ও ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সোমবার সারাদিন উপজেলার পানি বেড়ে উপজেলার চারখাই, আলীনগর, শেওলা, দুবাগ, কুড়ারবাজার ও থানাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সিলেটের গোলাপগঞ্জে উপজেলার কুশিয়ারা তীরবর্তী শরীফগঞ্জ, বাদেপাশা, ঢাকাদক্ষিণ, আমুড়া ও ভাদেশ্বরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুশিয়ারা তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোর নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল এলাকার আজির উদ্দিন বলেন, ‘গত সোমবার বিকালে থেকে কোনও বৃষ্টিই ছিল না, অথচ পানি বাড়ছেই। আমার বাড়ির ভিতর প্রথমে পায়ের পাতা সমান পানি ছিল এখন সেটা হাঁটু পানি। একে তো পানিবন্দি অবস্থায় আছি; তার ওপর সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।’
কুলাউড়া পৌরসভার সিপন মিয়া বলেন, মানুষ কষ্ট শিকার করে হলেও বাড়িঘর ও মালামালের মায়ায় যাচ্ছি না আশ্রয়কেন্দ্রে। কুলাউড়া পৌরসভার প্রায় সব কটি ওয়ার্ডে প্রচুর বাড়িঘরে মানুষ বন্যার পানির সাথে বসবাস করছেন। আজ সকালে শুনলাম পৌরসভার কিছু উঁচু স্থান ডুবে গেছে।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, কুলাউড়া উপজেলায় মোট ৩৩টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি আশ্রয় কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৭ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বৃষ্টিপাত না থাকলেও হাকালুকি হাওরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের সংখ্যা বাড়ছেই।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



