চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
সোমবার (৬ জুন) বিকালে সংগঠনটির কমিটি সদস্য সামিউল এহসান শাফিন প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাখার আহ্বায়ক রাজু শেখ ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে এই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “আপনারা হয়তো নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে পত্রপত্রিকায় দেখেছেন যে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে গতকাল শনিবার রাত ১১টায়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত চার বর্গকিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের পর এখনো আগুন জ্বলছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখন পর্যন্ত ৮ ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ ৪১ জন নিহতের খবর জানা গিয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে অনেকে চলে গেছেন। ৭০ জন চিকিৎসাধীন। আর ৪ জন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের আট কর্মী রয়েছেন।”
আমরা গত কয়েক দশকের ইতিহাস থেকে বুঝেছি যে, এই দেশে সাধারণ কারখানা শ্রমিকদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নাই। ইতিপূর্বে রানা প্লাজা ধ্বস, তাজরিন গার্মেন্টস ও হাশেম ফুডসে অগ্নিকাণ্ডের মত ঘটনায় শতশত শ্রমিক মারা গিয়েছে। মালিক পক্ষের অবহেলা এবং শোষণের শিকার হয়ে জীবন গিয়েছে বহু কারখানা শ্রমিকের। এই সকল দূর্ঘটনার মূলে সবসময়েই থাকে মালিকপক্ষের গাফিলতি এবং অব্যবস্থাপনা। চট্টগ্রামের দূর্ঘটনাও এর ব্যতিক্রম নয়।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিপজ্জনক হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের উপস্থিতি মিলেছে বেশ কয়েকটি কন্টেইনারে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান আইনে এই ধরনের বিপজ্জনক দ্রব্য আমদানি করার কোন লাইসেন্স নেই। এমনকি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যেসব ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন তাদেরকেও এই ক্ষতিকারক কেমিক্যাল সম্বন্ধে কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পানির মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেই কিছুক্ষণ পরে ঘটে চূড়ান্ত বিপর্যয়। একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌছানোর পর এবং পানির উপস্থিতিতে মুহুর্তেই বিস্ফোরিত হয় বিপূল পরিমাণ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রাখা কন্টেইনারগুলো। বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ প্রত্যক্ষদর্শীরাও গুরুতর আহত হন, নিহত হন তাদের মধ্যে অনেকেই। ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণে এটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার যে এই বিপজ্জনক হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে সীতাকুন্ডে আনা হয়েছিলো এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মজুদ করা হয়েছিলো।
তাছাড়া গণমাধ্যম থেকে জানা যায় সীতাকুন্ডের বিএম ডিপোর মালিক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান। ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের সহায়তা এবং পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এরকম ভয়ঙ্কর মারাত্মক রাসায়নিক পদার্থ দেশে আনার সামর্থ কারোর নেই। ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে হাজার হাজার গুম, খুন, হত্যাকান্ড, চাঁদাবাজি, লুটপাট, কালোবাজারি থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত একটা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট মনে করে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন দূর্ঘটনা নয়। বরং এটি স্পষ্টতই একটি হত্যাকান্ড। এর পেছনে দায়ী বিএম ডিপোর মালিকপক্ষের অব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের লুটেরা ও অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে মাথায় তুলে রাখার দীর্ঘদিনের ইতিহাস।
আমরা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট শাবিপ্রবি শাখার পক্ষ থেকে দেশের ছাত্রসমাজকে আহ্বান জানাচ্ছি এই ধরনের কাঠামোগত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে এবং ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর অত্যাচার-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট শাবিপ্রবি শাখা দাবী জানাচ্ছে, এই হত্যাকান্ডে জড়িত বিএম ডিপোর মালিকগোষ্ঠীর এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী সকলকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থ সকল পরিবারের সদস্যদেরকে আর্থিকভাবে স্বাব
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



