সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া জিরো পয়েন্টে পরিত্যাক্ত অর্ধশতবর্ষী অকেজো গোদাম ধসে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মে) সকালে অশনির প্রভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। এমন সময় গোদামটি ধসে পড়ে। স্থানীয় হযরত গোলাপশাহ(র.) মাজারের প্রবেশদ্বারে অকেজো গোদামটি ধসে পড়ে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়রা জানান, গোদামটি খাদ্য গোদাম হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৪৩ বছর আগে নির্মিত গোদামটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। ফলে গোদামের লোহার তৈরী দরজা ও রেলিং চুরি হয়ে যায়। পরিত্যাক্ত থাকায় গোদামের ছাদে ঘাস-লতাগুল্ম জন্মে ছাদের টেম্পার নষ্ট হয়ে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ও স্থানীয় লোকজন বোরো মৌসুমে গোদামটির ভেতরে ধান মাড়াই ও সাময়িক সময়ের জন্য সংরক্ষণ করতেন। সম্প্রতি গুদামটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে ভেতর মানুষ প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়। কিন্তু প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে এখানে অনেকে অবস্থান করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে অশনির প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ করে বিশালাকারের গোদামের অর্ধেকাংশ ধসে পড়ে। অপর অর্ধেকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থেকে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৪৩ বছরের পুরোনো গুদামটি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক গোদামটি নির্মিত হয়। নির্মাণের পর এটি খাদ্য অধিদপ্তরের গোদাম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণে গোদামটি অব্যহৃত থেকে যায়।
এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, গোদামটি ভেঙে পড়েছে জানতে পেরে উপজেলা উপ সহকারি প্রকৌশলীকে পাঠিয়েছে। তিনি এসে প্রতিবেদন দেবেন এবং মাসিক সভায় সিদ্ধান্তক্রমে এটি বিক্রির জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
তিনি বলেন, গোদামটি ঝুঁকিপূর্ণ, এক বছর আগে এটি পরিষদের মাসিক সভায় তুলে ধরি। কিন্তু পাশেই আরেকটি গোদাম সেটিসহ উপজেলা পর্যায়ে ৩টি গোদাম অকেজো ছিল। এ অবস্থায় কৃষি অফিসার বিভাগীয় পরিচালককে চিঠি দেন মন্ত্রণালয়ের অনুমোতি ছাড়া অকেজো এসব ভবন ভাঙা যাবে না। তখন আমরাও জেলা প্রশাসনকে চিঠি লিখি, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় উপজেলা প্রশাসনের নেবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সুদর্শন সরকার বলেন, অকেজো গুদামটি ধসে পড়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে উপ সহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। তবে এরআগে ভেঙে পড়া ইট-পাথর যাতে লুট না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ইট-পাথর চুরি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



