ঢাকা যাওয়ার জন্য আগে থেকেই কালনী এক্সপ্রেসের টিকিট কেটে রেখেছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রবিউল ইসলাম। সেহরীর পর কাক ডাকা ভোরে স্টেশনে। কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনে দাঁড়িয়ে। কিন্তু ছাড়ছে না ধর্মঘটের কারণে। কেউ কোনো আশ্বাসও দিতে পারছেন না ট্রেন কখন ছাড়বে।
এরইমধ্যে অফিসিয়াল মিটিংয়ে ঢাকায় যোগ দিতে যাওয়া বাতিল হলো তার। অবশেষে টিকিটও বাতিল করতে হয়েছে।একইভাবে সিলেটের টুকেরবাজারের সারোয়ার আহমদ চিকিৎসকের অ্যাপোয়েনমেন্ট রাখা ছিল। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে সোয়া ৬টার গাড়ি সোয়া ২টায় ছাড়াতে টিকিট বাতিল করেছেন তিনিও।
ধর্মঘটের কারনে আচমকা দুর্ভোগের কবলে পড়েন সিলেট থেকে বিভিন্ন গন্তেব্যের উদ্দেশ্যে বের হওয়া ট্রেন যাত্রীরা।
সরেজমিন বুধবার দুপুরে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, সিলেট থেকে ভোরবেলা আন্ত:নগর কালনী ও সকালে জয়ন্তিকা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। একইভাবে চট্রগ্রাম অভিমুখী আন্ত:নগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ডকইয়ার্ডে রাখা।
সিলেট রেল স্টেশন সুত্র জানায়, ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে কালনী ছাড়াও সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে পাহাড়িকা ও ১১ টা ১৫ মিনিটে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস সিলেট থেকে গন্তব্যে উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি। রেল কর্মচারিদের ধর্মঘটের কারনে এই ট্রেনগুলো ছেড়ে যায়নি।
রেল সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত বেলা সোয়া ২টায় কালনী এবং জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস ৩টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এছাড়া ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনগুলোও যথাসময়ে গন্তব্যে পৌছেনি। আর অতিরিক্ত বিলম্বের কারণে চট্রগ্রামগামী আন্ত:নগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়নি।
রেল স্টেশনের কর্মকর্তারা বলেন, বুধবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ট্রেনের চালকসহ রেলওয়ের কর্মচারিরা স্টেশনে আসেননি। এ কারণে ট্রেন যাত্রায় বিঘ্ন ঘটে। তবে যাত্রীদের যারা যাত্রা বাতিল করতে চেয়েছেন। তারা টিকিট ফেরত নিয়ে টাকা নিয়ে গেছেন।
পেনশন থেকে মাইলেজ ভাতা বাতিলের প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে ধর্মঘটে নেমেছেন রেলওয়ের কর্মচারিরা। তবে ধর্মঘটের কারণে কেবল সিলেট রেল স্টেশন থেকে টিকিট বাবদ সরকারের প্রা্য় ৩লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আর মানুষকে ভোগান্তি পেতে হয়েছে মূল্যহীন।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম বলেন, ধমর্ঘটের কারণে সিলেট রেল স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এ জন্য ৩টি ট্রেনের অন্তত ১২শ’ যাত্রী টিকিট বাতিল করে টাকা ফিরিয়ে নিয়েছেন। এতে টিকিট থেকে রাজস্বের প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পেনশন থেকে মাইলেজ ভাতা বাতিলের প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে ধর্মঘটে নেমেছেন রেলওয়ের কর্মচারিরা। এতে সারাদেশের মতো সিলেটেও বন্ধ ছিল সিলেটে ট্রেন চলাচল। অবশেষে মন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করলে সিলেট থেকে প্রায় ৮ ঘন্টা পর ট্রেনে চলাচল শুরু হয়।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



