মাত্র ৫০ টাকার জন্য আন্দোলন করছেন সিলেটের মাংস ব্যবসায়ীরা। দোকান না খুলে ক্ষতির সম্মুখিত হয়েও দাবি আদায়ের পক্ষে অটল তারা। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) গরুর মাংসের দাম ৬০০ টাকা ধার্য্য করে দিয়েছে। তাদের দাবি গরুর মাংস কেজিতে বাড়তি আরো ৫০ টাকা। আর খাসির মাংস ৮শ’ থেকে সাড়ে ৯শ’ টাকা ধার্য্য করে দেওয়া। নয়তো তাদের লোকসান হবে।
তবে নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা একবার দাম বাড়ালে ফের কমাবেন না। যদি তারা কথা দেন, রোজার পর দাম কমবেন, তবেই তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা যেতে পারে। অন্যথায় ধার্য্যকৃত দামের চেয়ে বেশি রাখলে জরিমানা গুনতে হবে।
এমনটি জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাংস ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে যাওয়ার আগে মেয়রের কাছে ৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখতে পারতেন।তা না করে চাপে ফেলতে তারা আন্দোলনে গেছেন।রোজায় ৭২০ টাকা দরে গরুর মাংস বিক্রি করছিলেন। দাম বেশি রাখায় ৩টি দোকানকে জরিমানা করা হয়।এ কারণে তারা আন্দোলনে গেছেন।
তিনি বলেন, একবার দাম বাড়ালে তারা আর কমাবেন না। ফলে গরুর মাংস ৬শ’ এবং খাসির মাংস ৮০০ টাকা ধার্য্য করে দেওয়া হয়। তারা ২০/৩০ টাকা বাড়তি দাবি করলে সেটা বিবেচনা সাপেক্ষ ছিল। যেখানে রাজশাহীতে গরুর মাংস ৬৩০ টাকা ধার্য্য করে দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। ৫০ টাকা বাড়তি নেওয়ার জন্য তারা প্রস্তাব দিতে পারতেন। তবে তারা যদি কথা দেন রমজান পরে দাম কমবে, তখন নগর কর্তপক্ষও দাম পূণ:বিবেচনায় নেবেন।
এ বিসয়ে সিলেট মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিক বলেন, ‘আন্দোলনে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাইনি।আমাদের দাবি ছিল ঢাকা-চট্রগ্রামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। তা না করে নগর কর্তৃপক্ষ ৬০০ টাকায় গরু ও খাসি ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে বলে। ধার্য্যকৃত দামে ব্যবসা করা অসম্ভব।এমন হলে ভিটেমাটি বিক্রি করে এনে জনগণকে মাংস খাওয়ানো লাগবে।
তিনি বলেন, আমরা কখনো আন্দোলনে যাইনি।কিন্তু আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।ব্যবসায় লোকসান দিতে গিয়ে অনেকে পেশা পরিবর্তন করেছেন।কেউ বিদেশ চলে গেছেন।কেউবা অন্যের দোকানে কাজ করে দিনাতিপাত করছেন।মেয়র অন্তত একটু সুনজরে দেখলে আমরা ক্ষতি থেকে রক্ষা পাই।
কেননা, এখন দাম দিয়ে পশু কিনে এনে জবাই করতে হচ্ছে। নগরে প্রায় অর্ধশত মাংসের দোকান। একটি পশু জবাই করে ২/৩ দোকানে ভাগ করে বিক্রি করি। প্রতিনিয়ত ৫০/৬০টি গরু বিক্রি করা যায়। অনেকে মনে করে আহামরি ব্যবসা। কিন্তু আমরা সমিতির ১১৮ জন সদস্য কিভাবে সংসার চালাচ্ছি, আমরাই জানি। আমরা শনিবার পর্যন্ত দেখবো। এরপর রোববার থেকে প্রয়োজনে সব দোকানপাট গুটিয়ে নেবো।
ব্যবসায়ীরা বলেন, সিলেটের রেস্তোরাগুলোতে এখন মাংসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তারা বার যোগাযোগ করছেন। তারাই জানেন, গরু জবাই করে রেস্তোরায় মাংস বিক্রি করলে কেজি হাজার টাকায় গিয়ে পড়বে। তারপরও পোষাবে না। এ অবস্থায় যদি রেস্তোরাগুলো গরুর মাংসের দাম বাড়তি রাখে, নগর কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থায় যাবেন না!
নগরের আতাউল্লাহ মিট শপের স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদুর রহমান বলেন, নগরে সব দোকানগুলো মিলিয়ে প্রতিদিন ৫০/৫৫টি গরু জবাই হয়। এক দোকানে গরু জবাই করলে তিন দোকানে ভাগবাটোয়ারা করে বিক্রি করে। নগর কর্তৃপক্ষও জবাই করা গরু প্রতি ১০০ টাকা করে পান। কিন্তু আমরাতো অল্প লাভে তুষ্ট। সীমান্ত দিয়ে গরু না আসায় চড়া দাম দিয়ে বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে এনে বিক্রি করতে হয়। অথচ আমাদের দাবির পক্ষে কেউ কথা বলছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরে প্রায় ৭০টি মাংসের দোকান ছিল। এখন ৪২টিতে নেমে এসেছে। সমিতির ১১৮ সদস্য থাকলেও অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দোকানে চাকরী করেন। ব্যবসা ছেড়ে দেওয়াদের তালিকায় আছেন অন্তত ৩০ জন। তাদের কেউ বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। কেউবা অন্যের দোকানের কর্মচারি। কেউ পেশা ছেড়ে দিয়ে রিকশা চালিয়ে জীবনযাপন করছেন।
মাংস ব্যবসায়ীদের কয়েকজন বলেন, দেশে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতি হয়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা মাত্র ৫০ টাকা বাড়তি চাচ্ছি। সেটাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।
পবিত্র রমজান মাসে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কর্তক মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় আন্দোলনে যাচ্ছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এক জরুরি বৈঠকে সিলেট মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ গোশত বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) থেকে গরু ও ছাগলের গোশত বিক্রি করছেন না মহানগরী এলাকার ব্যবসায়ীরা। নিজেদের লোকসান স্বীকার করেও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তারা আন্দোলনে অটল রয়েছেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



