সিলেটে একদশকে নবজাতক ও মাত্যৃমৃত্যুর হার কমেছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
সিলেটে ২০১০ সাল প্রতি হাজারে নবজাতকের মৃত্যুর হার ছিল ৪৫ জন। ২০২০ সালে তা ২৪ জনে নেমে এসেছে। একইভাবে ২০১০ সালে প্রতি লাখে মাতৃমৃত্যু ছিল ৪৫ জন। ২০২০ সালে তা ২৪ জনে নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (০৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মূল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানানো হয়।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ২০১৫ সালে এমডিজি শেষে আমরা এসডিজিতে পদার্পণ করি। সে অনুযায়ী প্রতি লাখে জীবিত জন্মে মায়ের মৃত্যু ৭০ এর নীচে নামিয়ে আনা। হাজার জীবিত জন্মে নবজাতক মৃত্যু ১২’র নীচে নামিয়ে আনা। আর ৫ বছরের নীচে শিশু মৃত্যু হাজারের ১৮ নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০২০ সালের পরিসংখ্যান করা হয়েছে। ২০২২ সালের পরিসংখ্যানে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার আরো কমে আসবে আশাবাদি তিনি।
’সুরক্ষিত বিশ্ব নিশ্চিত স্বাস্থ্য’ এই প্রতিপাদ্যে এদিন সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও যথাযোগ্য মর্যাদায়বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়। দিবসটিতে স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেট’র উদ্যোগে ও বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় দিবসটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।
এদিন বিভাগীয় স্বাস্থ্য ভবন প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বেলুন উড়িয়ে সকালে দিবসের কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য ডা. হিমাংশু লাল রায়।
পরে স্বাস্থ্য ভবন প্রাঙ্গন থেকে বের হওয়া র্যালী নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালী শেষে স্বাস্থ্য ভবনের ইপিআই ভবনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. এস এম শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য ডা. হিমাংশু লাল রায়।
সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. স্বপ্নিল সৌরভ রায়ের পরিচালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা, জন্মেজয় দত্ত। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহকারী পরিচালক রোগ নিয়ন্ত্রণ ডা. নূরে আলম শামীম।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মো. আব্দুল কাদির, খাদিমপাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রজ্ঞা পারমিতা দে, সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন বনিক প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, বিশ্বকে সুরক্ষিত করতে হলে আমাদের নিজেদেরকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। বিশ্বকে সুরক্ষিত করতে না পারলে আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবো।
তিনি বলেন, আমাদের অপরিকল্পিত ব্যবহার পরিবেশ ধ্বংস করছে। আমরা প্রকৃতিকে ধ্বংস করছি, এর জন্য এর প্রভাব পড়ছে আমাদের উপর। পরিবেশ ধ্বংস না করার অঙ্গিকার প্রদানের মাধ্যমে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রথমে বিশ্বের পরিবেশ পরে মানব সভ্যতা। স্বাস্থ্যকর্মী সকলের প্রচেষ্টায় জনগণকে সুরক্ষিত করে প্রকৃতি রক্ষা করলে স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. এস এম শাহরিয়ার বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দিবস পালন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রতিটি ক্ষণ অন্যের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কাজ করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. স্বপ্নিল সৌরভ রায়।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



