নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে রাত পোহালেই বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল। নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠের পরিবর্তে রেজিস্ট্রারী মাঠে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘদিন পর ‘নিস্প্রভ’ সিলেট বিএনপিতে কাউন্সিল ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। তবে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে শঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না দলের নেতাকর্মীরা।
ভোটার তালিকায় অনিয়ম-বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গত ২১ মার্চ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও ২৪ ঘন্টা আগে স্থগিত করা হয়। এরপর কেন্দ্রের চাপে সভাপতি প্রার্থী থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
তবে আরিফুল হক চৌধুরী সরে দাঁড়ানোর পরও নতুন শঙ্কা পয়দা হয়েছে সিলেট বিএনপিতে। কাউন্সিলকে ঘিরে এরইমধ্যে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সিলেট বিএনপি। এ কারণে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনার গভীরে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এই শঙ্কার নেপথ্যে জাসদীয় নেতৃত্ব স্থাপন।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাসদ থেকে বিএনপিতে আসা নেতাকে নেতৃত্বে আনতে কেন্দ্রেরও ইশারা রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেও চাচ্ছেন সিলেট বিএনপিতে জাসদীয় নেতাকে মসনদে বসাতে। এ জন্য কাউন্সিলরদেরও নানাভাবে প্রলোভন দেওয়া হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতাদের চাওয়ার কাছে বঞ্চিত থাকতে পারেন তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে আসা নেতারা।
দলীয় সূত্র জানায়, আরিফুল হক চৌধুরী রণেভঙ্গ দেওয়ায় সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলে ৩ পদের বিপরীতে লড়বেন ৯ জন। সভাপতি পদে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও আবুল কাহের চৌধুরী (শামীম)। সাধারণ সম্পাদক পদে আফম কামাল, আলী আহমদ, অ্যাডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরী ও মো. আব্দুল মান্নান। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট এম মুজিবুর রহমান মুজিব, লোকমান আহমদ ও মো. শামিম আহমদ। তবে সভাপতি পদে জাসদীয় নেতার সঙ্গে টক্করে রয়েছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা পরিক্ষিত।কিন্তু কেন্দ্রের চাওয়া জাসদীয় নেতাকে সিলেট জেলা বিএনপির নেতৃত্বে নিয়ে আসা। এ নিয়ে অভ্যন্তরে নেতাকর্মীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে, এমনটি জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।
সংশ্লি সূত্র মতে, দীর্ঘ ২ বছর ৩ মাস পর অবশেষে গণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করে জেলার ১৮টি ইউনিটে (উপজেলা ও পৌর) পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে মঙ্গলবার বহুল প্রতিক্ষিত সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যদিও জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটিকে ৩ মাসের সময় দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য জেলার আহ্বায়ক কমিটির পক্ষে বিলম্বের ব্যাখা দিয়ে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরও বলেন, করোনা মহামারির কারণে দলীয় অনেক কার্যক্রম স্থবির ছিলো। তাই সময়তো সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিলের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
কিন্তু এতোদিন পর কাউন্সিলের আয়োজন করা হলেও তীরে এসে আবারো বিতর্ক দেখা দেয় ভোটার তালিকা নিয়ে। গত ২১ মার্চ সম্মেলন ও কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও ভোটার তালিকায় গলদগর্মের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এ নিয়ে তদন্ত কমিটিও করা হয়।
সূত্র জানায়, যে কারণে আগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। কাউন্সিলরদের সেই একই ভোটার তালিকা দিয়ে ফের কাউন্সিল হচ্ছে। ফলে ইতোর্পূর্বে সম্মেলন স্থগিত করা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে!
স্থগিত হওয়া সিলেট জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল মঙ্গলবার নগরীর রেজিস্টারী মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয়, সিলেট বিভাগীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



