সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চল কানাইঘাটে দিনমজুর শাহেদ আহমদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) রাতে নিহতের ভাই সুলতান আহমদ বাদি হয়ে গ্রেফতারকৃত আব্দুল মান্নানসহ ৩০ জনের নামোল্লেখ করে এ মামলা (নং-২৪(৩)২২) দায়ের করেন। মামলায় আরও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম পিপিএম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলা দায়েরের পর আটক আব্দুল মান্নানকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এরআগে শুক্রবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে নিহত শাহেদ আহমদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিকেল ৫টার দিকে এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ এশা জানাযা শেষে পঞ্চায়েতী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাত ৮ টার দিকে কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের আগতালুক গ্রামের মৃত ইসলাম উদ্দিনের ছেলে দিন মজুর মো. শাহেদ আহমদকে(৩২) কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। জমিজমা ও গোষ্ঠীগত বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
ওইরাতে স্থানীয় সীমারবাজার থেকে ফেরার সময় পথে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শাহেদ আহমদের মাথা ফেটে মগজ বেরিয়ে যায়। হামলার পর ওসমানী মেডিক্যাল নিয়ে আসার সময় পথেই শাহেদ আহমদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ৩ সহোদর ও চাচাতো ভাই আহত হয়েছেন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে, শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহরিয়ার আলম, কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আব্দুল করিম, থানার ওসি তাজুল ইসলাম এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই’র একটি টিম। এছাড়া ঘটনার পর রাতেই র্যাব-৯ একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর উভয় গোষ্ঠীর লোকজন গ্রামছাড়া রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে হাট-বাজারেও নেই দলাদলি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে আদিপত্য বিস্তার নিয়ে আগতালুক গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হারুন রশিদ এবং মাওলানা জসিম উদ্দিন গংদের গোষ্ঠীগত বিরোধ চলে আসছিল। তাদের মধ্যে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটে।
আগতালুক গ্রামের মৃত ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহেদ আহমদ, তার সহোদর মস্তাক আহমদ, সোহেল আহমদ, সুলতান আহমদ ও তাদের চাচাতো আনছার আলী স্থানীয় সীমারে বাজার থেকে ফিরছিলেন।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে একসঙ্গে বাড়ীর অদূরে পাঁচপীর জামে মসজিদের কাছে আসামাত্রই প্রতিপক্ষ মাওলানা জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক লোকজন ধারালো অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রতিদিনের মতো ছেলেদের নিরাপদে বাড়ী ফেরার অপেক্ষায় থাকেন তাদের মা হাসনা খাতুন। মসজিদের পাশে রাস্তায় ছেলেদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনিও।
বিদ্যুৎ না থাকার কারনে অন্ধকারে হামলাকারীরা উপর্যপুরীভাবে ধারালো অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শাহেদ ও তার ভাই সোহেল, সুলতান, মস্তাক ও তাদের চাচা আনছার আলীকে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে।
হামলাকারীদের হাত থেকে ছেলেদেরকে রক্ষা করার জন্য মা ঝাপিয়ে পড়েন। কিন্তু মায়ের সামনেই ছেলেদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। মায়ের চোখের সামনেই ছেলে সাহেদ আহমদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে রওয়ানা হলে পথিমধ্যে শাহেদের মৃত্যু হয়।
আশংকাজনক অবস্থায় তার অপর ৩ ভাইসহ চাচাকে স্থানীয় এলাকাবাসী উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে সোহেল আহমদের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, একের পর এক গোষ্টিগত দ্বন্ধের জের ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার পর সর্বশেষ নিরীহ সাহেদ আহমদের মৃত্যুতে গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নিহতের মা হাসনা খাতুন বিলাপ করে বলেন, তার চোখের সামনে গ্রামের মৌলভী জসিম উদ্দিন ও কামাল উদ্দিন, আতাব উদ্দিন, হেলাল, আব্দুল মান্নান, নিজাম, আফলালসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্রধারী তার ছেলেকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম পিপিএম বলেন, গোষ্ঠীগত দ্বন্ধের জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। জড়িত থাকার দায়ে আব্দুল
মান্নান নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের আটক করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



