সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় আকাশ (২০) নামের এক যুবকের হাতের রগ কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তারা যুবকের বুকে পিঠে ছুরিকাঘাত করে। চলে যাওয়ার সময় হুমকি দেয়, এখন রগ কাটলাম, থানায় মামলা করলে খুন করে ফেলবো! এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উচিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিক আহত যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আহত যুবক সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার টুকেরগাঁও গ্রামের সাজু মিয়া ছেলে।
বিগত এক মাস ধরে আহত ছেলেকে নিয়ে প্রানের মায়ায় থানা পুলিশে যেতে ভয় পাচ্ছেন আকাশের পরিবার। আহত যুবকের বাবা সাজু মিয়া বলেন,থানায় মামলা করলে মনির নামে সন্ত্রাসী আমাদেরকে মেরে ফেলবে।এলাকায় থাকতে দিবেনা।এখন পুলিশ যদি পাশে থাকে তবেই থানায় মামলা করবেন।
গত ২১ মে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে উপজেলার টুকের বাজারস্থ ভিকটিমের নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আইসক্রিম ফ্যাক্টরীর সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী খাইরুল আমিন জয় জানান, ঘটনাটি আমার দোকানের পাশেই ঘটেছে। এইরকম রক্তাক্ত ঘটনা আমি প্রথম দেখলাম।হামলা শেষে আমার সামনে দিয়েই হামলাকারীরা চলে যায়।আমি অপরাধিদের শাস্তি কামনা করছি।
প্রত্যক্ষদর্শী সুটকি ব্যবসায়ী রুসমত আলী,আবেদ আলী ও জুতার ব্যবসায়ী মতিন মিয়া জানান, আকাশ ছেলেটা খুব ভদ্র। তার উপর এভাবে অতর্কিত হামলা হবে, আর হামলাকারীদের শাস্তি হবে না, তা আশা করা যায় না। শিগগিরই আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
আহতের বাবা সাজু মিয়া নতুন সিলেটকে বলেন, ঘটনার দিন ২১ মে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে নিজের আইসক্রিম ফেক্টরিতে কাজ করছিলেন।তখন উত্তর বুরদেও গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মনির মিয়ার নেতৃত্বে তার বড় ভাই রতন মিয়া,রতন মিয়ার ছেলে কামাল মিয়া,বিল্লাল মিয়া, দক্ষিণ বুরদেও গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে বিজয় সহ ৬/৭ জন ছুরি/চাকু নিয়ে এসে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। সাজু মিয়া তাদেরকে চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার উপর তারা চড়াও হয়।এ সময় ভিকটিম তার ছেলে আকাশ মিয়া এগিয়ে এলে কামাল ও বিজয় তাকে ঝাপটে ধরেন। মনির মিয়া, বিল্লাল ও রতন মিয়া আকাশের বুকে, কাধে ছুরিকাঘাত করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাম হাতের তিনটি রগ কেটে ফেলে তারা। যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায়, যদি চাঁদার টাকা না দেওয়া হয়, তবে আবারও তাদেরকে এইরকম অবস্থা করা হবে । আর এ ঘটনা পুলিশকে জানানোর চেষ্টা করলে সবাইকেই খুন করে ফেলবো।তারা বলে, পুলিশকে জানালেও আমার কিছুই হবেনা। কারণ তাদের বাসাতে পুলিশের অনেক কর্মকর্তারা ভাড়া থাকেন।
স্থানীয়রা বলেন, আগেও কামাল ও তার বড় ভাই বিল্লালের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।এম সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল নজরুল ইসলামের উপর হামলা করেছিল তারা। প্রিন্সিপাল নজরুল ইসলাম কর্তক দায়েরকৃত মামলায় বিল্লাল এজাহারভূক্ত অন্যতম আসামী রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনির মিয়ার সঙ্গে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতিনিয়তই উঠাবসা হয়।প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সাথে মনিরের ভালো সম্পর্ক থাকায় সে যেন অনেকটা বেপরোয়া প্রকৃতির হয়ে উঠেছে।
মনিরের মা খুশি বেগম জানান, মনির আমার ছেলে হলেও সে মানুষ ভালো না।সে আমাদের খরপোস দেয় না।সে বাড়ি গাড়ির মালিক হলেও আমাদের সে ভাতকাপড় দেয় না।মনির আমাকে তার বাড়িতে যায়গা দেয়না, তাই আমি মেয়ের বাড়িতেই্ থাকেন।
হামলাকারী মনির মিয়ার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান,বিষয়টি মিমাংসাধীন রয়েছে।কোনো পক্ষই থানায় মামলা করবে না।হামলায় তার ভাতিজা কামাল ও ভাগ্না বিজয় অংশ নিয়েছেন স্বীকার করেন মনির মিয়া। তবে হুমকির কথা তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল জাহান কাজল বলেন,বিষয়টি শুরুতেই শুনেছিলাম।সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলা।কিন্তু ভিকটিম আমাদেরকে কিছু জানায়নি।তারা যদি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



