সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী থেকে ইজারাবর্হিভূত বালু উত্তোলন বন্ধের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।ইজারার সীমানা মানতে চাইছে বালু উত্তোলনকারীরা। বালু খেকোদের দৌরাত্ব যেন দিনদিন বেড়েই চলেছে।গত ১৪২৭ বাংলা সনে ইজারাবর্হিভূত ধলাই নদীর কালাইরাগ মৌজার ভোলাগঞ্জ ১০ নং,রোপওয়ে,দয়ারবাজার,কালীবাড়ি,লিলাই বাজার এলাকার বালু সাবাড় করার পর এবার হানা দিয়েছে ধলাই ব্রীজের দক্ষিণ অংশ কলাবড়ি খেলার মাঠ,দক্ষিন কলাবাড়ি গ্রামের একাংশ,ইসলামগঞ্জ বাজারের আশে পাশ।এইসব এলাকায় ইজারাবর্হিভূতভাবে লিস্টার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে।ফলে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে খেলার মাঠ, রাস্তা ও গ্রাম।
খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল জাহান কাজল ঘটনাস্থলে পৌছে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত লিস্টার ও নৌকা গুলোকে হ্যান্ড মাইকিং করে দূরে সরে যেতে বলে।এরপর বালু উত্তোলনকারীরা নির্দিষ্ট ইজারার এলাকায় চলে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কলাবাড়ি খেলার মাঠের আশে পাশে ১৫/১৬ লিস্টার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। যারফলে নদীর কিনারঘেষা কলাবাড়ি খেলার মাঠ ভেঙ্গে নদী বিলীন হচ্ছে। এভাবে বালু উত্তোলন হতে থাকলে ধলাইপূর্ব পাড়ের একমাত্র সরকারী খেলার মাঠটি ভেঙ্গে বিলীন যাবে।
প্রদীপ কুমার রায় মালিকানাধীন তুহিন এন্টারপ্রাইজকে ৫ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা মূল্য দিয়ে ১৪২৮ বাংলা সনে লিজ দেওয়া হয়েছে কালাসাদক-২ ও তৈমুর মৌজার নদী অংশ, যা ধলাই ব্রিজের ৫ শ’ গজ দক্ষিণ থেকে শুরু।
উপরন্তু লিজগ্রহীতা প্রদীপ ও তার পার্টনাদেরকে ধলাই নদীর ৫শ’ গজ দক্ষিণে লীজের সীমানা চিহ্নিত করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। লাল পতাকা দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও বালু উত্তোলনকারীরা তা মানতে চাইছেনা।সুযোগ পেলেই ইজারার বাইরে থেকে যন্ত্রদানব লিস্টার মেশিন দিয়ে খুবলে খেতে চায় উপরোল্লেখিত এলাকা গুলো।গভীর গর্ত করে বালু উত্তোলণের ফলে ধ্বসে যাচ্ছে আশপাশের জমি।
রুমন নামের স্থানীয় একজন বলেন, ইজারাদার প্রতিষ্ঠান প্রতি বছরই ইজারার বাইরে থেকে বালু উত্তোলন করে। বালু উত্তোলনকারীরা জোর করে আবাসিক এলাকা থেকে বালু তুলতে চায়।অপরিকল্পিতভাবে বালু তুলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই দক্ষিণ কলাবাড়ি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সেই সাথে কলাবাড়ি সরকারী খেলারমাঠটি বন্যার স্রোতের সাথে নদীতে ভেঙ্গে পড়বে।
এ বিষয়ে ইজারা প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রদিপ কুমার রায় বলেন, ইজারার বাইরে থেকে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবেনা।বালু উত্তোলনকারীরা অবশ্যই নির্দিষ্ট এলাকার ভিতর থেকে বালু উত্তোলন করতে হবে।এব্যাপারে তিনি সংবাদকর্মীদের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন।
খেলার মাঠ ও গ্রামের একাংশ থেকে লিস্টার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল জাহান কাজল বলেন, আগামীকাল থেকে খেলারমাঠের পাশে পুলিশ টিম বসানো হবে।আশা করি কাল থেকে আর কেউ বালু উত্তোলন করতে পারবেনা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্যকে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



