ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে জাল ভিসায় দেশে লোক পাঠানোর মহা প্রতারক আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (০১ মার্চ) বেলা ২টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজার পয়েন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী মাহমুদ বলেন, প্রতারনার মাধ্যমে অন্তত ৩শতাধিক লোকজনের টাকা আত্মসাৎ করেছে আমিন ট্রেভেলসের মালিক আমিনুর রহমান। এরপর সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশের তৎপরতায় সে পালাতে পারেনি। ফের সিলেট ফেরার পথে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সে বিদেশ পাঠানোর নাম করে ২০ কোটি টাকার উপরে আত্মসাৎ করেছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। বুধবার আদালতে সোপর্দ করে রিমাণ্ড আবেদন করবো।
গ্রেফতারকৃত আমিন রহমান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নিজগাঁওয়ের তোফাজ্জল আলীর ছেলে। তিনি নগরীর শাহজালাল উপশহরস্থ জি ব্লকের ৪ নং রোডের ৯৬ নং বাসায় থাকতেন।
জানা গেছে, নগরের হক সুপার মার্কেটের আমিন ট্রেভেলস নামক প্রতিষ্ঠান খোলে বসেন আমিনুর রহমান। তিনি ইউরোপ, কানাডা, রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ৩ মাসের মধ্যে পাঠানোর নামে ৩শ’ লোকজনের কাছ থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়ে যান। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভোক্তভোগীরা। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, ভোক্তভোগীরা বিক্ষোব্ধ হয়ে মামলা দায়ের করেন। খবর পেয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করে আমিন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর পেয়ে সকল এয়ারপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ওয়ারলেস বার্তা পাঠানো হয়্। যে কারণে সে দেশ ছেড়ে পালাতে না পেরে সিলেটে ফিরে আসছিল। পথিমধ্যে সিলেটে প্রবেশ করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ভূক্তভোগীরা জানান, মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে ৬ লাখ টাকায় রোমানিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় ‘আমিন রহমান ট্রাভেলস’। ওই বিজ্ঞাপন দেখে তারা ট্রাভেলসে যোগাযোগ করলে ট্রাভেলসের মালিক আমিনুর রহমান বুকিং মানি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং ওয়ার্কপারমিট আসার পর আরও ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে জানান। আর বাকি ৫ লাখ টাকা ভিসা হওয়ার পর দিতে হবে। এভাগে অন্তত; ৩শ’ লোকের কাছ থেকে টাকা নেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোক্তভোগীদের পাসপোর্টে লাগানো ভিসাও জাল ছিল। অনেককে ভিসা হওয়ার কথা বললেও পাসপোর্ট ফেরত দেননি আমিন।
এদিকে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রোমানিয়ায় ফ্লাইট দেওয়া কথা জানিয়েছিল উল্লেখ করে ভোক্তভোগীরা বলেন, এরপর ওইদিন বিকেল ৪টা থেকে মোবাইল তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গোটারগ্রামের ভোক্তভুগী রুহুল আমিন বলেন, রোমানিয়ার যেতে তিনি ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আমিনের হাতে তুলে দেন। ওয়ার্কপারমিটের কাগজ দেখিয়ে ট্রেনিংয়ের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তিও করেন আমিন। ৩ মার্চ ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। তার পরিচিত একজনের মাধ্যমে ভারতস্থ রোমানিয়া দূতাবাসে ভিসার কপি পাঠালে সেখান থেকে জানানো হয়-এটি জাল ভিসা। এভাবে ভিসা জাল জালিয়াতি করে আসছিলেন আমিন।
মৌলভীবাজারের ভোক্তভোগী মাহবুবুর রহমান বলেন, রোমানিয়া যেতে বাড়ির জায়গা বিক্রি করে আমিনকে ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ফ্লাইট দেওয়ার আশ্বাসে আগের দিন তিনি ঢাকায় যান। কিন্তু বিকেল ৪টা থেকে আমিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীকে নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ আদালতে গিয়ে মামলা দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
গত শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আমিন রহমান ট্রাভেলস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন ভোক্তভোগীরা। প্রতারক আমিন রহমানকে গ্রেফতার এবং আত্মসাতকৃত টাকা উদ্ধারে সরকার তথা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পরে শনিবার বিকেলে আমিন রহমানকে প্রধান অভিযুক্ত করে আরও ২ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় ভোক্তভোগীরা একটি অভিযোগ দায়ের করলে রোববার মামলা রেকর্ড করে পুলিশ।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



