সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় একটি খোলা তেলের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। খোলা তেলের দোকানে লাগা আগুন থেকে বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পাশের আরেকটি দোকানপাট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এসময় সামনে থাকা তেলবাহি ট্র্যাংক লরীতেও আগুন লাগে ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নগরীর বাবনা পয়েন্টে পদ্মা-যমুনা তেলের ডিপো সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৭টি ইউনিটের কর্মীরা প্রায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১০টার দিকে একটি খোলা আগুন লাগে। এসময় দোকানে থাকা সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মূহূর্তে দোকানটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর আগুনের লেলিহান শিখা বাড়তে থাকে। আগুন ছড়াতে থাকে আশপাশের দোকানগুলোতে। তখন আশপাশের বসতির বাসিন্দা ও দোকানীরা আতঙ্কিত হয়ে এলাকা ছাড়তে শুরু করেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয় পাশ্ববর্তী তেলের ডিপোতে। যদিও দমকল বাহিনীর কর্মীদের প্রচেষ্ঠায় বড় ধরণের বিপর্যয় থেকে রক্ষা হয়।
এদিকে, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের নগরের তালতলা থেকে ৪টি এবং দক্ষিণ সুরমার ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালায়। তবে কৌতুহলী জনতা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় ব্যাঘাত ঘটে। পরে পুলিশ জনতাকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। আগুণের ভয়াবহতায় সহযোগিতা চেয়ে সেনানীবাস ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকেও আহ্বান করা হয়। যদিও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় সেনানীবাসের ইউনিটকে আসা থেকে বিরত রাখা হয়। বাকি ৭টি ইউনিটের যৌথ চেষ্টায় রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপ পরিচালক (চ:দা:) সানাউল হক বলেন, খবর পাওয়ার পরই তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান। তাদের ৭টি ইউনিট আগুন নেভাতে সচেষ্ট ছিল। একটি খোলা তেলের দোকানে আগুন লেগে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে আরেকটি দোকান পুড়ে যায়। এসময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্র্যাংক লরিতেও আগুন লাগে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে ভয়ের কারণ ছিল পাশেই ২০০ গজ দূরে যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা কোম্পানির ডিপো থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল। যে কারণে ৭টি ইউনিট কাজ করার পরও সেনানীবাসের ইউনিটকে ডাকা হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় তাদের পথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনো নিরুপন করা যায়নি। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
এব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সার্বিক প্রচেষ্টায় আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
স্থানীয়রা জানান, তেলের ডিপোকে ঘিরে আশপাশের দোকানগুলোতে খোলা তেল বিক্রি হতো। ডিপোর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঙ্গে আঁতাত করে খোলা তেল বিক্রি করতো এসব দোকানীরা। মূলত; খোলা তেলের এসব দোকানগুলো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অদূর ভবিষ্যতে এরকম আরো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকার লোকজন। আর সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারতো ডিপোতে আগুন লাগলে। কেননা ঘটনাস্থলের পাশেই ছিল বস্তি ও একটি প্রাইমারী স্কুল। ফলে মানুষের প্রাণ হানির ঘটনা এ যাত্রা থেকে রক্ষা পেলো। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



