ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত, ক্রিমিয়া ও রাজধানী কিয়েভে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। পাল্টা প্রতিরোধের কথা জানিয়েছে ইউক্রেনও। পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছে বৈশ্বিক পরাশক্তি রাশিয়া।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন।
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত, ক্রিমিয়া ও রাজধানী কিয়েভে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। পাল্টা প্রতিরোধের কথা জানিয়েছে ইউক্রেনও। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে রাশিয়ার পাঁচটি যুদ্ধবিমান ও একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইউক্রেনে হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিভিন্ন রাষ্ট্র। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অভিযানকে ‘বিনা উসকানিতে হামলা ও অন্যায্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রাশিয়ার সেনাদের ফিরিয়ে নিতে পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কমপক্ষে ৪০ সেনা ও ১০ জনের মতো বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমার জেলেনস্কির এক সহকারী বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের সহকারী ওলেক্সি আরেস্তোভিচ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জানি যে, ৪০ জনের বেশি (সেনা) নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আমি ১০ জন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির বিষয়েও অবগত।
ইউক্রেন পুলিশের বরাত দিয়ে রয়টার্সের সূত্র ধরে বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণ করা হবে। এ ছাড়াও দেশটির নাগরিকদের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ইউনিটে যোগদানের জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকেজো করে দেয়া হয়েছে এবং ইউক্রেনীয় বর্ডার ফোর্স রাশিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ গড়েনি। এমনটাই জানিয়েছে বিবিসি।
যদিও এরআগে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, তাদের বিমানবাহিনী রাশিয়ার বিমান হামলার বিরুদ্ধে লড়ছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার বিমান হামলায় ৭ নাগরিক নিহত হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে ইউক্রেনের পুলিশ। এছাড়া আরও ৭ জন আহত ও ৯ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার হামলার মুখে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ছাড়ছেন দেশটির নাগরিকরা। কিয়েভের রাজপথে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অধিকাংশ গাড়ির গন্তব্যই পশ্চিম ইউক্রেনের দিকে। তবে কিছু গাড়িকে পূর্ব ইউক্রেনের দিকেও যেতে দেখা গেছে। কিয়েভের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
আরটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক অভিযান শুরুর পরও রাশিয়া দাবি করেছে, তারা পুরো ইউক্রেন দখল করতে চায় না, তবে তারা চায় দেশটির ‘নাৎসিমুক্তকরণ’ ও ‘অসামরিকায়ন’।
ইউক্রেনীয় বর্ডার গার্ডের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাশিয়ার সামরিক যান ক্রিমিয়া দিয়ে ইউক্রেনে প্রবেশ করছে। এমনটাই জানিয়েছে সিএনএন। তবে ক্রিমিয়ার ঠিক কোন অংশ দিয়ে সামরিক যানগুলো প্রবেশ করছে তা জানা যায়নি।
ইউক্রেনের বর্ডার গার্ড এর আগে জানিয়েছিল, ইউক্রেনের বর্ডার ইউনিট, পেট্রল ও চেকপয়েন্টগুলো লক্ষ্য করে কামান, ভারী যুদ্ধ সরঞ্জাম ও হালকা অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে রুশ সেনারা। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইউক্রেনীয় সেনারাও।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ সেনারা ইউক্রেনের বিমানঘাঁটির সামরিক অবকাঠামোতে হামলা করেছে এবং সেই ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে।
একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের বিমান ভূপাতিত করার দাবিকে অস্বীকার করেছে। এর আগে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী বলেছিল দেশটির পূর্ব লুহানস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার পাঁচটি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে তারা। তবে, উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



