শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)শান্ত ক্যাম্পাসে যেনো অশান্ত হয়ে ওঠে একরাতে। সিরাজুন্নেছা হল প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে শুরু হওয়া আন্দোলনের রূপ বদলায় পরদিনই।
উপাচার্যকে ঘেরাও করা নিয়ে পুলিশের গুলি, টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে আহত হন অসংখ্য শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশের হস্তক্ষেপ আরো অশান্ত করে তুলে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসকে। ফলে উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগে একদফা দাবিতে রূপ নেয় আন্দোলন।ফলস্রুতিতে মিছিল মিটিং থেকে মরণপণ অনশনে যায় শিক্ষার্থীরা। অবরুদ্ধ ভিসি পুলিশী পাহারায় অবস্থান করেন বাংলোতে।
অনশন ভাঙাতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সবচেষ্টা যখন ব্যর্থ, তখন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনিকে স্বশরীরে সিলেটে এসে পরিস্থিতি দেখে যাওয়া এবং তাদের কথা শোনা। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী একাধিক বার প্রতিনিধি পাঠানোর পর অবশেষে তার পাঠানো প্রতিনিধির মাধ্যমে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেন। তাতেও কাজ হয়নি। অবশেষে সরকারের উপর মহল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. জাফর ইকবালকে পাঠানো হলে তাঁর হাতে পানি পান করে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন।
পরিস্থিতি শান্ত হলেও প্রতিবাদের ভিন্ন ভাষায় ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। অবশেষে আন্দোলনের দীর্ঘ ২৮ দিন পর সিলেটে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে কি বার্তা থাকছে তাঁর এই সফরে। এ নিয়ে কৌতুহল শুরু হয়েছে সর্বমহলে।
আজ শুক্রবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন শিক্ষক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরআগে সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট সার্কিট হাউজে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শিক্ষামন্ত্রী।
সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে কি বার্তা নিয়ে এসেছেন ডা. দিপুমনি। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকেই বা কি পরামর্শ নিয়েছেন, তা এখন দেখার বিষয়। ফলে শিক্ষামন্ত্রী আসার বিষয়টি সিলেটজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভিসির ফরিদ উদ্দিনের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত আসছে?
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়বস্তু নিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারী) রাতে ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, গত ৪ সপ্তাহ যাবত শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন চালিয়ে আসছে, তার মূল দাবি ছিল ১৬ জানুয়ারির নারকীয় পুলিশী হামলার নির্দেশদাতা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ বা অপসারণ। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমদ ও প্রক্টর ড. আলমগীর কবীরকে পদত্যাগের দাবি উঠেছে। ইতিমধ্যে তাদের পদ থেকে অব্যহতি দিতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তিনি বলেন, শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রীর আমাদের আলোচনা হবে। আমরা আমাদের দাবি গুলো তার কাছে উপস্থাপন করবো। এছাড়া আমাদের ওপর ঝুলে থাকা মিথ্যা মামলাসমূহ এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ক্যাম্পাসে আসবেন এতটুকুই জানি। কি নিয়ে আলোচনা হবে তা আমাকে বলা হয়নি। তবে ভিসি স্যার আমাকে ছুটিতে না থেকে ক্যাম্পাসে থাকতে বলেছেন। সবকিছু ভিসি স্যারের সাথে কথা হচ্ছে। এছাড়া আমার সাথে আর কথা হয়নি।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস বলেন, আমরা শুনেছি শুক্রবার ক্যাম্পাসে শিক্ষামন্ত্রী আসছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে আলোচনা করার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। আমরাও অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছি শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলোচনায় বসতে।
এদিকে, আন্দোলনের ২৮ দিন পরও বাংলো থেকে বের হননি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন। তিনি বাসভবনে থেকে দাফতরিক সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, এমনটি নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি একটি হলের প্রভোস্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এ হলের ছাত্রীরা। ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় অধ্যাপক জহির উদ্দিন সহযোগী অধ্যাপক ড. আলমগীর কবীরের উস্থিতিতে ছাত্রীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগের একাংশ। পরে ১৬ জানুয়ারি উপাচার্যকে উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ফের তাদের দুজনের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড, ও গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এর পর ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের অনশন। যা গত ২৬ জানুয়ারি সকালে ১৬৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা। তবে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



