নগরের রয়েছে অবৈধ স্ট্যান্ড। কোথাও অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, কোথাও বা মাইক্রোবাসের স্ট্যান্ড। তবে এবার দেখা মিললো অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড।
তাও দাপটের সঙ্গে ওই স্ট্যান্ডটি পরিচালনা করে যাচ্ছেন জনৈক বিএনপি নেতা। ট্রান্সপোর্ট তথা পরিবহণ ব্যবসায়ী ওই বিএনপি নগরের শিবগঞ্জে গড়ে তুলেছেন এই স্ট্যান্ড। আর ওখান থেকে চলাচল করে নাম্বার বিহীন সিএনজি অটোরিকশা।
অথচ নাম্বার বিহীন সিএনজি অটোরিকশা দেখলে যেখানে ধাওয়া করে আটকায় পুলিশ। রেকার করে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ লাইনে।তবে বিএনপি নেতার ওই স্ট্যান্ডের পাস-ই যেনো নাম্বার বিহীন অটোরিকশাগুলোর রোড পারমিট।
আর কিছুদিন আগেও অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংঘাতেও জড়ায় শ্রমিকরা। কিন্তু ওই বিএনপি নেতার স্ট্যান্ডের গাড়ি জানলে প্রশাসনও আটকায় না, এমন তথ্য দিয়েছেন স্থানীয়রা। যে কারণে অবৈধ স্ট্যান্ড সরাতে নগর কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রশাসনের তরফ থেকেও কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয় না।

আর মাঝে মাঝে অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা আটকের অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। অথচ নগরে প্রকাশ্যে এসব অনটেস্ট সিএনজি-অটোরিকশা ঘাঁটি বসিয়ে চলাচল করলেও যেনো নজর কাড়ে না ট্রাফিক পুলিশের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের জনৈক নেতার সঙ্গে আঁতাত করে নাম্বার বিহীন অবৈধ সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড ধরে রেখেছেন নগরের সুবহানীঘাটের ওই ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ওই বিএনপি নেতা। অবৈধ স্ট্যান্ডে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও শেল্টারদাতারা পুলিশের কাছ থেকে ‘টোকেন বা স্টিকার’ সংগ্রহ করে সড়কে তা দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব টোকেন বা স্টিকার দেখালেই পুলিশ গাড়ি ছেড়ে দেয়, এমনও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি এসএমপি (ট্রাফিক)পুলিশের পক্ষ থেকে নগরের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে যানবাহন পার্কিং না করতে সাইনবোর্ড টানানো হয়। এই সুযোগে নগরের শিবগঞ্জের হাতিমবাগ আবাসিক এলাকায় অনটেস্ট সিএনজি-অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তুলেন সিলেট জেলা বিএনপি’র ওই নেতা। এই স্ট্যান্ড থেকে অনুমোদনহীন সিএনজি অটোরিকশা সিলেট-জৈন্তা-তামাবিল-গাছবাড়ি ও কানাঘাট সড়কের চলাচল করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গড়ে ওঠা ওই অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে অন্তত; অর্ধশত সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। প্রতি মাসে স্ট্যান্ড থেকে ভাগবাটোয়ারা ৯ হাজার টাকা বখারা পান বিএনপি নেতা।বিষয় এলাকার সবারই জানা।তবে তার দাপটের ভয়ে কেউ মুখ খুলেন না।

সরেজমিন বুধবার শিবগঞ্জের হাতিমবাগ আবাসিক এলাকায় অবৈধ স্ট্যান্ডে গেলে অনটেস্ট অটোরিকশার নিয়ে চালকরা একে একে পালিয়ে যান। পরে এসব গাড়ি গিয়ে অবস্থান করে নগরীর শিবগঞ্জ-সাদিপুর ফিলিং স্টেশনে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শিবগঞ্জ সড়কে যানজটের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অবৈধ স্ট্যান্ড। এলাকার পক্ষ থেকে বারবার প্রশাসনকে অবৈধ স্ট্যান্ড সরানোর জন্য আহবান জানিয়েও ব্যর্থ হয়েছি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, এসব অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদের দায়িত্ব ট্রাফিক বিভাগের একার নয়। উচ্ছেদের দায়িত্ব সিলেট সিটি কর্পোরেশনেরও। তারা নির্ধারন করে, কোথায় কে বসবে, না বসবে। নগর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করি। আমরা অনেক সময় উচ্ছেদ করার পরেও তারা আবার এসে বসে পড়ে। তবে সড়কে অনটেস্ট সিএনজি-অটোরিকশা চলাচল করতে দেখলে ট্রাফিক পুলিশ তা আটক করে।
এ বিষয়ে জানতে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



