দালালদের কাছে রোগির স্বজনরা ‘মুরগি’। রাতের আধারে ‘মুরগি’ ধরতে ফাঁদ পাতেন দালালরা। রোগির অসহায়ত্ব পুঁজি করে ওষুধ বিক্রির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন টাকা। সেই দালালদের এবার ফাঁদে ফেললো পুলিশ।
সোমবার (৩১ জুন) গভীর রাত ২ টার দিকে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (সিওমেক) করিডোর থেকে ১৪ জনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (০১ জুন) বিকেলে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
যাচাই বাছাই শেষে তাদের ৯ জনকে রেখে ৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেড়ে দেওয়া ৫ জন অ্যাম্বুলেন্স চালক বলে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ।
তিনি বলেন, দালালদের প্রতারণার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।বিভিন্ন কৌশলে রোগির স্বজনদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বাকিতে ওষুধ দেওয়ার সুবিধা দিয়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।দিনের বেলায় দালালরা হাসপাতালের বাইরে থাকলেও রাতের বেলায় হাসপাতাল করিডোরে ছদ্দবরণে ঘুরে বেড়ায়। বিভিন্ন ফার্মেসীর হয়ে কাজ করে তারা।
তিনি বলেন, সোমবার রাতে ১৪ জনকে আটক করা হলেও মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৯ দালালকে গ্রেফতার দেখানো হয়। অন্যরা অ্যাম্বুলেন্স চালক হওয়ায় পরিবহণ শ্রমিক নেতারা তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে আটককৃতদের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গোলাপগঞ্জের বুধবারি বাজার ইউনিয়নের কালিজুড়ি গ্রামের মৃত হাজি তাহির আলীর ছেলে ও নগরের দক্ষিণ কাজলশাহ ৬৮ নং বাসার বাসিন্দা আমির আলী (৩৩), সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মিরের চকের গৌউস আলীর ছেলে নগরের ঘাসিটুলা মাহমুদ মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা সোহেল (৩৬), পশ্চিম কাজলশাহ ৩০ নং বাসার লাভলু মিয়ার ছেলে তামিম আহমদ (৩০), একই এলাকার ১৫৯ বাসার মৃত মোজাম্মেল আলীর ছেলে মো. কামাল আহমদ (৪৭), সিলেট সদরের আলীনগর ফালপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে জালাল উদ্দিন(২৮), সুনামগঞ্জ সদরের হালুয়াঘাটের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে বর্তমান নগরের শামীমাবাদ মজুমদার পাড়ার শাহীন আহমদ (৩০), জকিগঞ্জের মাইজকান্দি গ্রামের মৃত মতিউর রহমান ছেলে ও কোতোয়ালির মজুমদারপাড়ার বাসিন্দা আবুল কালাম (২৮), সিলেটের বালাগঞ্জের করচারপাড়ের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে ও এয়ারপোর্ট সাহেবের বাজারের বাসিন্দা সালেহ আহমেদ (৩৪) এবং মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বানিয়াপুকুর গ্রামের মো. বাদলের ছেলে বর্তমানে মেডিক্যাল এলাকার ভবঘুরে রাকিবুল ইসলাম (২২)।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দালালরা রোগির স্বজনদের সাংকেতিক নাম হিসেবে মুরগি ব্যবহার করে থাকেন। আর তাদের কাবু করতেই মূলত; এ নাম ব্যবহার করে থাকে তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের সামনের ফার্মেসীগুলোর একাধিক দালালদের পুষে থাকে। ওষুধ বিক্রি করিয়ে দিয়ে দালালরা ফার্মেসী থেকে বড় অংকের কমিশন নেয়। বাকিতে অল্প টাকার ওষুধ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এভাবে ভোক্তভোগী হন গ্রামাঞ্চল থেকে রোগি নিয়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগিরা।
মৌলভীবাজারের ভাটেরা এলাকার বাসিন্দা সাহেল আহমদ বলেন, কিছুদিন আগে একটি নোহা মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় তার স্বজনদের কয়েকজন আহত হয়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ওই রাত ৩ টার দিকে হাতে টাকা না থাকায় এক দালালের মাধ্যমে বাকিতে একটি ফার্মেসী থেকে ৪ হাজার টাকার ওষুধ আনেন। পরবর্তীতে প্রায় ২০ হাজার টাকাও ওষুধ নেওয়া হয়েছে, দাবি করে টাকা আদায় করে নেয়। এভাবে হাসপাতাল চত্বরে অসহায় রোগিদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে দালালরা।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



