দ্বিতীয় দফায় ফের নিলামে উঠলো সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি।গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর (এনজিএফএফএল) বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। মেসার্স আতাউল্লাহ গ্রুপ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১০৩ কোটি ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে কারখানাটি স্ক্রেপ হিসাবে কিনে নেন। কিন্তু নিয়মমাফিক টাকা জমা না করায় এটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের বেধে দেওয়া সময়েও টাকা জমা দিতে না পারেনি দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি। অবশেষে পূনরায় নিলামের সিদ্ধান্ত নেয় শিল্প মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ বিসিআেইসি।
বিসিআইসির অধীনস্থ ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানার মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) সেরনিয়াবাত রেজাউল বারী গত মঙ্গলবার (২৫ মে) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুকের পক্ষে দরপত্র আহ্বান করেন। বুধবার (২৬মে) দরপত্র আহ্বান করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারখানার বিভিন্ন স্ক্রেপ এক লট যেখানে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই নিলাম হবে।দরপত্র প্রতিলট মূল্য অফেরতযোগ্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ কর হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মোট দরের আড়াই শতাংশ জামানত সরকারি সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দিতে হবে।
দরপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ আগামি ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।দরপত্র খোলার সময় ওইদিন বেলা আড়াইটায় ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় মহাব্যবস্থাপকের (বাণিজ্যিক) কার্যালয়ে। দরপত্র জমা দেওয়া যাবে মহাব্যবস্থাপকের (বাণিজ্যিক) দফতর, এসএফসিএল ফেঞ্চুগঞ্জ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সিলেট ও মৌলভীবাজার।
এরআগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর (এনজিএফএফএল) বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। এতে ৯টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্র খোলা হয় গত ১৪ অক্টোবর। তন্মধ্যে ১০৩ কোটি ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয় সিলেটের ‘মেসার্স আতাউল্লাহ’ নামের প্রতিষ্ঠান। ভ্যাটসহ টাকার পরিমান দাড়ায় ১১৫ কোটি ৮৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৫ টাকা।
কিন্তু দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স আতাউল্লাহ গ্রুপ নির্দিষ্ট সময়ে টাকা জমা না দিতে পারায় সংশ্লিষ্ট অথরিটি বরাবরে সময় বর্ধিতের আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে শর্তভঙ্গ দেখিয়ে উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন করেন দ্বিতীয় দরদাতা প্রতিষ্ঠান রিমি নির্মাণ সংস্থা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান।
গত বছরের শেষ কর্মদিবসে উচ্চ আদালতের বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ (৩১ ডিসেম্বর) এক আদেশে শিল্প মন্ত্রনালয়ের সচিব, বিসিআইসির চেয়ারম্যান ও শাহজালাল সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সেসার্স আতাউল্লাহর পক্ষে বিক্রির আদেশ না দিতে নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে জবাব না দিলে আদালত তা নিস্পত্তি করবেন বলে রুলনিশি জারি করেন। এর ফলে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ন্যাচারাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী লিমিটেডের (এনজিএফএফএল)বিক্রয় প্রক্রিয়া আটকে যায়।
কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের চেম্বার জজ থেকে আতাউল্লাহ গ্রপের পক্ষে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ যাত্রাও টাকা দিতে ব্যর্থ হন তিনি।
ফেঞ্চুগঞ্জ র্যাচারাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী লিমিটেডের যন্ত্রপাতি বিকল থাকা ও অব্যাহত লোকসানের মুখে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাটির মালামাল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবারো।
কাগজপত্রে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ দারদাতা প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে ব্যাংক নিরাপত্তা জামানতের ১০ ভাগ হিসেবে ১০ কোটি ৩০ লাখ ৭ হাজার ৫শ টাকা জমা দেওয়ার কথা। ওই সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দিলে শর্ত মোতাবেক দরপত্র জামানতের ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। কিন্তু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তার দরপত্র জামানত বাতিল না করে তাকে নোটিফিকেশন অব এ্যাওয়ার্ড (নোয়া) প্রদান করেন সার কারখানার কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় সময় বৃদ্ধি করা হলেও সমোদয় অর্থ দিতে ব্যর্থ হয় আগের দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি। ফলে পূণরায় পুরাতন সার কারখানার দরপত্র আহ্বান করা হলো।
এদিকে, পূণরায় দরপত্র আহ্বান করায় নড়েচড়ে বসেছেন স্ক্রাপ ঠিাকাদারী ব্যবসায়ীরা টেন্ডারে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন অনেকে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



