গ্রীষ্মকালীন মিষ্টি, সুস্বাদু রসালো ফল লিচু। অর্থকরী এই ফসলের গাছে ছেয়ে থাকা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম।
টিলা-পাহাড় অধ্যুষিত এ ইউনিয়নের গ্রামে লিচুর বাগানতো আছেই, এমন কোনো বাড়ি নেই যে, বাড়িতে লিচু গাছ নেই। গ্রামের প্রতিটি বাড়িই যেনো এক একটি লিচুর বাগান।
মাটির প্রকার ভেদে হয় রসালো এই ফসল। এ কারণে গোটা সিলেটজুড়ে সুখ্যাতি রয়েছে ঘিলাছড়ার লিচুর। মধু মাসে আম-কাঁঠালের সঙ্গে ফলনে রঙিন হয় লিচুর গাছ।মৌ মৌ ঘ্রাণে বিভোর হয়ে ছুটে আসে বাদুড়, কাঠবিড়ালি, বানরসহ পশু পাখিরাও। মৌমাছিরাও বাসা বাধে গাছের ডালে।

কৃষকরা প্রাণীকূল থেকে লিচুর ফলন রক্ষায় নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত রাখেন গাছের আশপাশ। লিচুর সুরক্ষায় গাছের চারপাশে টানানো হয় কারেন্ট জাল। বাদুড় ও পশুপাখি তাড়াতে গাছের ডালে টিন বেধে রশিটেনে রাজ জেগে পাহারা দেওয়া হয়। প্রতিরাতে টিনের ঘটর ঘটর শব্দে মুখর থাকে প্রতিটি বাড়ি।
কিন্তু এবার গ্রামে লিচুর ফলন খুবই কম। তবে কিছু কিছু বাড়ির গাছে লিচু এসেছে। দু’একটি বাড়িতে লিচুর ফলন ভাল হওয়াটা সৌভাগ্যের হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলেন, এবার লিচুর ফলন ধরার সময় গাছগুলো কচি পাতা ছেড়েছে। কচি পাতা আসলে লিচুর বৌল আসবে না। তাছাড়া গাছগুলোতে ফলন না আসার কারণ হিসেবে বৃষ্টি না হওয়াটাকে মুখ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, পুরো ইউনিয়নের হাজার হাজার গাছে লিচুর ফলন আসেনি। হাতেগোনা কয়েকটি বাড়ি ব্যতিরেকে গ্রামে লিচুর দেখা মিলেনি। ফলে গ্রামের মানুষ ও লিচু ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যবস্ততা নেই তেমন। এরআগে ২০১৭ সালেও গ্রামগুলোতে লিচুর ফলন আসেনি বলেও জানিয়েছেন কৃষকরা।

তবে কিছু কিছু বাড়িতে গাছের টকটকে লাল লিচু ধরেছে। চাষিরা সেসব লিচু গাছ থেকে নামাতে দেখা গেছে। বাড়ির লোকজন সেসব লিচু খুচরা ৫০টার আঁটি ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
লিচু চাষি শাহিদ আহমদ বলেন, লিচু গাছ সবার বাড়িতেই আছে। তার বাড়িতে ৫টি, মামার বাড়িতে ১৭টি গাছ রয়েছে। গ্রামের মধ্যে তাদের দুই বাড়িতেই এবার লিচু বেশি। এরপরও লিচুর ফলন কাঙ্খিতভাবে আসেনি। লিচু কম আসার পেছনে সিজনে বৃষ্টিপাত না হওয়াকে দায়ি করছেন তিনি। বললেন, লিচু অনেকের গাছে আসে, তবে খরার কারণে বৌল ঝড়ে পড়ে গেছে। আবার প্রকৃতির খেয়ালে অনেকের কাছে বৌল আসার বদলে কচি পাতা আসায় লিচুর ফলন হয়নি। এটা প্রকৃতির খেয়াল হিসেবে দেখছেন তিনি।
ঘিলাছড়া ইউনিয়নের বাদেদেউলী গ্রামের জাকির আহমদ বলেন, গ্রামে তাদের বাড়িতেই লিচুর ফলন ভাল হয়েছে। এরপরও প্রতি বছর যেভাবে লিচু আসার কথা, খরার কারণে সেভাবে আসেনি। তবে যতটুকু লিচু এসেছে, দামও ভাল পাচ্ছেন।
ইউনিয়নের আশিঘর গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, তার বাড়িতে প্রায় অর্ধশত লিচু গাছ রয়েছে। কিছু গাছে লিচু এসেছে। তবে এবার গ্রামে লিচুর ফলন খুবই কম। তবে যেসব গাছে লিচু এসেছে, আকারে বড় হোক, ছোট হোক ঘিলাছড়ার লিচু খুবই সুস্বাদু, মিষ্টি।
যুদিষ্টিপুর গ্রামের সুমন আহমদ বলেন, আমাদের বাড়ি টিলার উপরে। পানি আটকে না থাকায় প্রতি বছর লিচুর ফলন ভাল হয়। এ বছরও ফলন এসেছে, তবে খুবই কম।
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিভাগের চার জেলায় ৫৮১ হেক্টর ভূমিতে লিচুর ফলন হয়। এরমধ্যে সর্বাধিক সিলেটের মৌলভীবাজারে ২৮৭ হেক্টরে, সিলেটে ১২৮ হেক্টর, হবিগঞ্জে ১২১ ও সুনামগঞ্জে ৪৫ হেক্টর।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



